এস,এস, সি পরীক্ষা হলের নিয়ম -কানুন
এস এস সি পরীক্ষা শিক্ষা জীবনের একটি বিশেষ অংশ। এস এস সি পরীক্ষা এমন একটি সেতু যার মাধ্যমে কোন শিক্ষার্থী নতুন এক শিক্ষা স্তরে পদার্পণ করে।পাশাপাশি এই এই পরীক্ষা এবং এই পরীক্ষার ফলাফল তার জীবনের লক্ষ্য অথবা কর্ম জীবনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।তাই আজ এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার নিয়ম-নীতি নিয়ে আলচোনা করবো। সাধারণত এসএসসি পরীক্ষার হলে কিছু নিয়ম-কানুন থাকে যা অনুসরণ করা আবশ্যক। শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে এই নিয়ম-কানুনগুলো নির্ধারিত করা হয়।তাই অনেক সময় পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার আগে এই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তিত থাকে। স্বাভাবিকভাবেই চিন্তা করার ব্যাপারটা থেকেই যায় এইরকম একটা পরীক্ষায়। কেননা এই রকম একটি বোর্ড পরীক্ষায় মাত্র একটি ভুলের জন্য এক একজন শিক্ষার্থীর এক বছর নষ্ট হয়েও যেতে পারে। সেটা যেই কোনো ভুলে হতে পারে যেমন রোল নম্বর অথবা রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ভুল করা কিংবা পরীক্ষার হলে নির্ধারিত কোনো নিষিদ্ধ কাজগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি কাজ করা ইত্যাদি। এই জন্যই এই বোর্ড পরীক্ষার নির্দিষ্ট নিয়ম - কানুন গুলো সতর্কতার সাথে যথাযথ ভাবে পালন করা উচিত। তাই আজকে এই বিষয় গুলোকে যথাসম্ভব সহজভাবে বিস্তারিত নিচে উল্লেখ করা হলো।
আবশ্যিক পালনীয় কিছু নিয়মাবলী
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।অর্থাৎ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এর নির্ধারিত দেওয়া রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত রুটিনে নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় উল্লেখিত থাকবে।
প্রথম দিনে এবং পরবর্তী দিনগুলোতে পরীক্ষা হলের দরজা যথাক্রমে পরীক্ষা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা অথবা আধাঘন্টাআগে খোলা হবে। উক্ত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ আসন গ্রহণ করবে।পরীক্ষা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পূর্বে একটি সতর্কমূলক ঘন্টা দেওয়া হবে। তখন পরীক্ষার্থীদের সাথে আসা আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব পরীক্ষা হলের প্রাঙ্গন অবশ্যই ত্যাগ করতে হবে।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে কক্ষ প্রত্যবেক্ষকগণ কর্তৃক উত্তরপত্র সংগ্রহ করা হবে তবে এর আগে কোনো পরীক্ষার্থী তার আসন ছাড়তে পারবে না। তাছাড়া পরীক্ষা শুরু হওয়ার দুই ঘন্টা অতিক্রান্ত হওয়ার আগে কোনো পরীক্ষার্থী উত্তর পত্র দাখিল করতে পারবে না। পরীক্ষার্থীরা তাদের উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠায় নির্দিষ্ট স্থানে নিজ নিজ বোর্ড এর নাম, পরীক্ষার নাম, রোল নম্বর, রেজিস্টাশন নম্বর, ও বিষয় কোডের ঘর অবশ্যই যথাযথভাবে কাল কালির কলম দ্বারা পূরন করবে। নৈব্যত্তিক উত্তরপত্রে উক্ত বিষয়ের ঘর ভরাটসহ সেট কোট এর ভরাট করা আবশ্যক।নয়ত এই উত্তরপত্র বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। উত্তরপত্রের নির্ধারিত স্থান হতে উত্তর লিখা শুরু করতে হবে। শুধুমাত্র উত্তরপত্রের কভার পেইজ বাদ দিয়ে অন্য সকল পৃষ্ঠার উভয় দিকে উত্তর লিখতে হবে।
বিশেষ সতর্কতা
সাধারণত বোর্ড পরীক্ষা গুলোতে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন থাকে যা মান্য করা আবশ্যক। পরীক্ষার হলে কি কি নিয়ে যাওয়া যাবে এবং কি কি নিয়ে যাওয়া আবশ্যক তা শিক্ষামন্ত্রনালয় নিধারিত করে দেয়। পাশাপাশি কিছু কাজ নিষিদ্ধ করা হয়ে থাকে। নিম্নে এই বিষয় গুলো উল্লেখ করা হলো। পরীক্ষার্থীরা উত্তরপত্রের নির্ধারিত জায়গা ব্যতিত কভার পেইজের অন্যত্র কিছু লিখা বা দাগ দেওয়া সম্পূর্নরুপে নিষিদ্ধ। উত্তরপত্রটিকে কোনো অবস্থাতেই ভাজ করা যাবে না। তবে মার্জিনের জন্য স্কেল ও কলম বা পেন্সিল ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়।কিন্তু কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্রে লাল কালির কলম ব্যবহার করা যাবে না। উত্তরপত্রে আপত্তিকর মন্তব্য বা অনুরোধ অথবা উত্তরপত্র জমা না দিয়ে কক্ষ ত্যাগ করা, পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষা পরিচালনায় নিযুক্ত কোনো ব্যক্তির প্রতি অসৌজন্যমূলক আচারন,পরীকক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন বা সুলষ্ঠু পরীক্ষা পরিচালনায় কোনোরুপ বাধা সৃষ্টি করা হলে উক্ত পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।এছাড়া পরীক্ষাথীদের উত্তরপত্রে নিজের নাম,রোল, রেজিস্ট্রেশন নাম্বার, বাসার ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি ব্যক্তিগত তথ্য লেখা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ।তাই আমি বলবো যে৷ কোনো অবস্থাতে পরীক্ষা কক্ষের কক্ষপরিদর্শক এর সাথে দুর্ব্যবহার না করা,যথা সম্ভব ভাল আচারণ করাই শ্রেয়।
বোর্ড থেকে সরবরাহকৃত উত্তরপত্রের OMR
মুদ্রণে কোন ধরনের ত্রুটি বা ক্রমিক নম্বর মুদ্রিত না থাকলে বা উত্তরপত্র ছেঁড়া কাটা থাকলে অথবা সেলাই সঠিকভাবে না থাকলে উত্তরপত্রটি অবশ্যই পরিবর্তন করে নিতে হবে। আবার কোন উত্তরপত্রের টপ কভার এ একাধিক ও,এম,আর ফরম যুক্ত থাকলে উত্তরপত্র পরিবর্তন করে নিতে হবে। কোন পরীক্ষার্থী টপ কভার এর প্রথম অংশ ছিঁড়তে পারবে না। পাশাপাশি কক্ষ পরিদর্শক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পূর্বে টপ কভারের প্রথম অংশ ছিঁড়তে পারবে না। উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠায় অর্থাৎ ও,এম, আর সিট এর নির্দিষ্ট বক্সের লিথোকোড ও দাগের মধ্যে কিছু লেখা বা দাগ দেওয়া যাবে না।
পরীক্ষাথীদের উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার প্রথম অংশের বৃত্তাকার ঘরগুলো পরীক্ষার্থীরা এমন ভাবে পূরণ করতে হবে যেন এই গুলোর ভিতর এর লেখাটি দেখা না যায়। পরীক্ষার শেষ হলে অর্থাৎ উত্তরপত্র জমা দেওয়ার পূর্বে পরীক্ষার্থী উত্তরপত্রের শেষে END অথবা সমাপ্ত কথাটি লিখবে।
অনেক সময় দেখা যায় যে পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত উত্তরপত্রের প্রয়োজন হয়। এমত অবস্থায় পরীক্ষার্থীরা কক্ষ পরিদর্শকের স্বাক্ষরযুক্ত অতিরিক্ত উত্তরপত্র নিতে পারে।তবে সতর্কতার ব্যাপার হলো উত্তরপত্রটি অবশ্যই কক্ষ পরিদর্শকের স্বাক্ষরযুক্ত হতে হবে অন্যথায় অতিরিক্ত উত্তরপত্র বাতিল করা হবে। অতিরিক্ত উত্তরপত্র নিলে টপ কভারের ও এম আর ফরম এর নির্ধারিত স্থানে পরীক্ষা
শেষে উত্তরপত্রে সংখ্যা লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পূর্বে অতিরিক্ত উত্তরপত্রটি উত্তরপত্রের সাথে সুই সুতা দিয়ে সেলাই করে নিতে হবে। তবে উত্তরপত্রের বামপাশের কর্নারে এমনভাবে সেলাই করতে হবে যেন পারফোরেশন এর বাইরে থাকে।
পরীক্ষার হলে যা যা নিষিদ্ধ
সাধারণত এই ধরনের বোর্ড পরীক্ষাগুলোতে কিছু নির্ধারিত প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এই নির্ধারিত প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো বাইরে অন্য কিছু নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ। তাই এই বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা জরুরি।যদি এই অনুমোদিত জিনিসগুলো ব্যতীত অঅননুমোদিত কিছু পাওয়া যায় তাহলে তার পরীক্ষা বাতিল করাও হতে পারে।তাই আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিশেষ সতর্কতার সাথে লক্ষ্য করার জন্য বলছি।
পরীক্ষার হলে যেকোনো ধরনের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়াও এমন কোন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস নিয়ে যাওয়া যাবে না যা দিয়ে ছবি তোলা যায় অথবা অন্যত্র যোগাযোগ করা যায়। পরীক্ষার্থীর ব্যবহৃত ঘড়ি হতে হবে সাধারণ ঘড়ি। কোন প্রকার ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস যুক্ত ঘড়ি ব্যবহার করা যাবে না। পরীক্ষার্থীরা কেবল মাত্র এডমিট কার্ড ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড ব্যতীত অন্য কোন প্রকার কাগজ,নোট, বই পত্র নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না ।যদি পরীক্ষা চলাকালীন সময় কোনো পরীক্ষার্থীর নিকট কোনো প্রকার নোট পাওয়া যায় তা হলে তার পরীক্ষা বাতিল করা হতে পারে।পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের প্রয়োজনীয় কলম কালি পেন্সিল সঙ্গে নিয়ে আসবে এবং সাধারণ ক্যালকুলেটর ও যন্ত্রাংশ নিজেরাই ব্যবস্থা করবে।